Ticker

6/recent/ticker-posts

Ad Code

Responsive Advertisement

ডেপুটি রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেও নার্সিং ইনস্টিটিউটের ব্যবসা পরিচালনা করছেন নিলুফার ইয়াসমিন।

 শর্ত পূরণ ছাড়াই ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগের অভিযোগ. অভিযোগ তদন্তে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে তলব


নিলুফার ইয়াসমিন

বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের ডেপুটি রেজিস্ট্রার নিলুফার ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে শর্ত পূরণ না করেই ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ পাওয়ার, সরকারি চাকরির পাশাপাশি নার্সিং ইনস্টিটিউট ব্যবসা পরিচালনা এবং অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের তদন্তের জন্য আজ মঙ্গলবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি নিলুফার ইয়াসমিনকে সচিবালয়ে তলব করেছে। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব শাহ নুসরাত জাহান স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

জানা গেছে, ১৫ সেপ্টেম্বর 'বৈষম্যবিরোধী নার্সিং সংস্কার পরিষদ' বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিল এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে নিলুফার ইয়াসমিনের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেয়। ওই অভিযোগের কপিসহ অন্যান্য তথ্য যুগান্তরের কাছে এসেছে।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০১৯ সালে বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদ পূরণের জন্য একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনকারীর জন্য ১৫ বছরের শিক্ষকতা ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার শর্ত ছিল, যা নিলুফার ইয়াসমিন পূরণ করতে ব্যর্থ হন। ওই নিয়োগ পরীক্ষায় জান্নাতুল ফেরদৌস নামের একজন প্রার্থী প্রথম স্থান অধিকার করেন, কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে তাকে নিয়োগ না দিয়ে নিলুফার ইয়াসমিন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবীর নানকের সুপারিশে নিয়োগ পান।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে যে, নিলুফার ইয়াসমিন ঢাকায় ৫টি ফ্ল্যাট, ভারতে একটি বাড়ি এবং একাধিক গাড়ির মালিক। তিনি নিয়মবহিভূতভাবে নতুন নার্সিং কলেজের অনুমোদনের জন্য ২৫ লাখ এবং নবায়নের জন্য ৫ লাখ টাকা নিয়ে থাকেন। এভাবে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অবৈধ টাকা জমা দিয়ে ভারতে পাচার করছেন। নিলুফার তার পদ ও রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য করেছেন এবং কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই বিভিন্ন ইনস্টিটিউটকে সুবিধা প্রদান করেছেন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকায় তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

জানা গেছে, জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের পর এই অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে তদন্ত কমিটি কাজ করছে, তবে তিনি বিভিন্নভাবে কমিটিকে চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করছেন।

এসব অভিযোগ ও শুনানির বিষয়ে নিলুফার ইয়াসমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি। তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন এবং এসএমএস পাঠানো হলেও তিনি সাড়া দেননি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ